সাংবাদিকদের সঙ্গে দাসসুলভ আচরণের সুযোগ নেই : ‍উপদেষ্টা

৭ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:৪১  

সাংবাদিকদের সঙ্গে দাসসুলভ আচরণের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইসিটি, টেলিকম এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এ জন্য ওয়েজ বোর্ডসহ বেতনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকরা কেন পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারে না সে সব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নানামুখী স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। ওয়েজবোর্ডসহ সাংবাদিকদের বেতনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। দাসসুলভ আচরণের সুযোগ নেই। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সাংবাদিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ মাধ্যমের সংস্কার নিয়ে মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন উপদেষ্টা। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরামর্শের ভিত্তিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা সম্পাদক পরিষদ ও মালিকদের সঙ্গে বসতে শুরু করেছি। আমি এ বিষয় নিয়ে আপনাদের সঙ্গেও সরাসরি বসতে চাই। আমরা এখানে একটি মানদণ্ড দাঁড় করাবো।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব সাংবাদিকদের জন্য বড় কেস স্টাডি। এই অভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের কী ভূমিকা ছিল তা নিবিড়ভাবে আলোচনা পর্যালোচনা করা উচিত। কেননা তখন মাঠ পর্যায়ে সাংবাবিদকরা কাজ করলেও হাউজ থেকে তা প্রকাশ হতো না। ফলে এই সময়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়া কোনও কিছুই প্রচার করেনি। এ নিয়ে দায়িত্বশীল কাওকে বলা হলে বলবে, ডিজিএফআই বা সরকারের পক্ষ থেকে চাপ ছিলো। তাই সামনের দিনগুলোতে সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং তরুণদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। কেননা, দিন দিন তরুণদের মধ্যে সাংবাদিকতায় আসার প্রবণতা কমছে। অথচ নব্বইয়ের দিকে এমনটা ছিলো না।

আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘সংবাদমাধ্যমের সংস্কার কেন, কীভাবে?’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আয়োজক প্ল্যাটফর্ম মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক সাংবাদিক জিমি আমির।

তিনি বলেন, ব্যক্তি ও সমাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যম–ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। লিখিত বক্তব্যে জিমি আমির বলেন, বিচারহীনতা ও জবাবদিহি না থাকায় এবং চাকরি বাঁচানোর স্বার্থে মাঠের সাংবাদিকদের লেজুড়বৃত্তি সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যকর হয়ে উঠছে। ‘পেশাদার’ সাংবাদিকদের লেজুড়বৃত্তির চর্চা এখন আর অপ্রকাশ্য নয়। প্রেসক্লাব, ডিআরইউ, ডিইউজে, বিএফইউজে বা আরও সাংবাদিক সংগঠন থাকার পরও বিভিন্ন বিটভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। তারা পিকনিক, গিফটের নামে সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গ্রুপের কাছে চাঁদা দাবি করে থাকে। যাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা, উল্টো তারাই সাংবাদিকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

আইনজীবী সফিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ সাংবাদিকতার শিক্ষক ও সাংবাদিকেরা বক্তব্য দেন। এসময় সাংবাদিকেরা যাতে মুক্ত পরিবেশে গর্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করতে পারেন, সে জন্য মাঠের সাংবাদিকদের ‘অ্যাকটিভিজম’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, প্রথাগত ‘অ্যাকটিভিজমের’ জায়গাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিকদের সামনে রেখে বারিধারা, পূর্বাঞ্চল, উত্তরায় প্লট নিয়েছেন। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা’ নিয়েছেন। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা’ নিয়ে তাঁরাই আবার সাংবাদিকদের শোষণ করেছেন। তাঁরা নিজের স্বার্থ দেখেছেন। তাই যেসব সাংবাদিক পথেঘাটে খাটেন, তাদের ‘অ্যাকটিভিজম’ করতে হবে।